২০২৬ সাল

বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা পেতে পারে বৈশ্বিক এলএনজি উৎপাদন

চলতি বছর বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা পেতে পারে বৈশ্বিক এলএনজি উৎপাদন। এতে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেখা দেয়া সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কেটে গিয়ে পণ্যটির দাম কমে আসতে পারে।

চলতি বছর বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা পেতে পারে বৈশ্বিক এলএনজি উৎপাদন। এতে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেখা দেয়া সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কেটে গিয়ে পণ্যটির দাম কমে আসতে পারে। এ মূল্যহ্রাসের ধারাবাহিকতায় চীন ও ভারতের মতো শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বাড়তে পারে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের এক প্রাথমিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাড়তি উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে চলতি বছর থেকেই সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যা বজায় থাকবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এ বাড়তি সরবরাহের কারণে পণ্যটির দাম অব্যাহতভাবে কমতে পারে। এতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয় চাহিদা বাড়তে পারে এলএনজির।

পণ্যবাজার তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কেপলারের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালকে দেখা হচ্ছে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের জন্য বড় একটি রূপান্তরকাল হিসেবে। এ সময় বাজারে ঘাটতি পরিস্থিতি কেটে গিয়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা যাবে। এমনকি ইউরোপে শীতকালীন চাহিদা ও মজুদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও সরবরাহ যথেষ্ট থাকবে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি, কেপলার ও রাইস্ট্যাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, এ বছর বৈশ্বিক এলএনজি উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়তে যাচ্ছে অন্তত সাড়ে তিন কোটি টন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এ সক্ষমতা যুক্ত করতে যাচ্ছে। এতে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত। কেপলার, রাইস্ট্যাড, আইসিআইএস ও রাবোব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ থাকতে পারে ৪৬ কোটি থেকে ৪৮ কোটি ৪০ লাখ টনের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্টে গোল্ডেন পাস এলএনজি ও কাতারের নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্প চলতি বছর থেকে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্যাস যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের করপাস ক্রিস্টি ও প্ল্যাকেমিনস এলএনজি, কানাডার এলএনজি কানাডা এবং সেনেগাল ও মৌরিতানিয়ার উপকূলে গ্রেটার টর্তু আহমেইয়িম প্রকল্প থেকেও উৎপাদন বাড়বে।

এ অতিরিক্ত সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দামে নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করবে। রাবোব্যাংক, রাইস্ট্যাড ও কেপলারের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির গড় মূল্য হতে পারে প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ ডলার ৫০ থেকে ৯ ডলার ৯০ সেন্ট। ২০২৫ সালে পণ্যটির গড় মূল্য ছিল ১২ ডলার ৪৫ সেন্ট।

রাইস্ট্যাড ও কেপলার জানিয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ইউরোপীয় বাজার আদর্শ নেদারল্যান্ডসভিত্তিক টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটির (টিটিএফ) গড় মূল্য ২০২৬ সালে থাকতে পারে প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ ডলার ৫০ থেকে ৯ ডলার ৭৪ সেন্টে। ২০২৫ সালে এর গড় মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ ডলার ২০ সেন্ট।

ভর্টেক্সা, রাবোব্যাংক ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ায় এলএনজি ও ইউরোপে গ্যাসের দাম কমায় মার্কিন বাজার আদর্শ হেনরি হাবের সঙ্গে এগুলোর মূল্যের স্প্রেড বা ব্যবধান সংকুচিত হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি মার্জিনে চাপ পড়তে যাচ্ছে।

মূল্য সংবেদনশীলতা ও জ্বালানি খাতের বিকল্প নিয়ে বাজার প্রতিযোগিতার কারণে ২০২৫ সালে এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা কমেছিল। তবে রাইস্ট্যাড, কেপলার ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্য কমে আসার প্রভাবে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি খাতের রূপান্তর ও কৌশলগত মজুদ বৃদ্ধির প্রবণতার কারণে চলতি বছর এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে পারে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এতে নেতৃত্ব দেবে চীন ও ভারত।

এছাড়া নতুন চুক্তিভিত্তিক আমদানিও বাড়াতে যাচ্ছে দেশ দুটি। কেপলারের বিশ্লেষক নেলসন শিওংয়ের মতে, এলএনজির চাহিদা চীনে ৬০-৭০ লাখ ও ভারতে ৫০ লাখ টন বাড়তে পারে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক ওলে ড্রামডালের মতে, শিল্প খাতের দুর্বল চাহিদা, মার্কিন শুল্ক এবং স্থানীয় পর্যায়ের বাড়তি উত্তোলন ও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের কারণে ২০২৫ সালে চীনের আমদানি কমে গিয়েছিল। তবে দেশটিতে এ বছর চাহিদা বাড়লেও তা ২০২৪ সালের মাত্রা নাও ছাড়াতে পারে।

ইউরোপ এখন এলএনজির বৈশ্বিক চাহিদায় বড় ধরনের প্রভাবক হয়ে উঠেছে। কেপলারের হিসাবে, ২০২৬ সালে ইউরোপের এলএনজি আমদানি বাড়তে পারে ২ কোটি ২০ লাখ টন। রাইস্ট্যাডের পূর্বাভাসে এর পরিমাণ দুই কোটি টন। আর এনার্জি অ্যাসপেক্টস ও আইসিআইএসের রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী এ বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন।

আরও